মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভূমিউন্নয়নকরওবিভিন্নফি

ধারা-১৪২ (তামাদি)

যে বত্সরের খাজনা বকেয়া পড়ে সেই বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য তামাদি মেয়াদ সেই বত্সরের শেষ দিন হইতে তিন বত্সর কাল হইবে ।

ধারা-১৪৩ (খতিয়ান সংরক্ষণ)

কালেক্টর অত্র আইনের ৪র্থ খণ্ড অথবা এই খণ্ড অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত অথবা পুনঃপরীক্ষিত খতিয়ান নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবেন, প্রকৃত ভুল শুদ্ধ করিয়া ও উহাতে নিম্নলিখিত হেতুতে পরিবর্তনগুলি অন্তর্ভুক্ত করিবেন-

(ক) হস্তান্তর অথবা উত্তরাধিকারের ভিত্তিতে নামজারী;

(খ) জোত ক্ষুদ্রতর অংশ ভাগকরণ, একত্রীকরণ বা সংযুক্তকরণ;

(গ) সরকার কর্তৃক ক্রয় করা ভূমি অথবা জোতের নূতন বন্দোবস্ত; এবং

(ঘ) ভূমি পরিত্যাগ অথবা সিকস্তি অথবা অধিগ্রহণজনিত কারণে খাজনা মওকুফ ।

ধারা-১৪৪ (খতিয়ানসমূহ সংশোধন)

উপধারা-(১)সরকার যদি কোনো ক্ষেত্রে উপযুক্ত মনে করেন তবে সরকার কোনো জেলা, জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকার স্বত্বলিপি সরকার কর্তৃক প্রণীত অনুযায়ী রাজস্ব অফিসার কর্তৃক প্রণয়ন অথবা পুনঃপরীক্ষণ করিবার নির্দেশ প্রদান করিয়া আদেশ দিতে পারেন ।

উপধারা-(২)সাধারণভাবে উপরোল্লিখিত ক্ষমতার ক্ষতিসাধন না করিয়া সরকার বিশেষভাবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির যে কোনটি সম্বন্ধে আদেশ দান করিতে পারেন, যথা-

(ক) যেক্ষেত্রে মোট প্রজাগণের অর্ধেকের কম নহে ঐরূপ আদেশ প্রদানের নিমিত্ত দরখাস্ত করিয়াছে;

(খ) যেক্ষেত্রে প্রজাগণের মধ্যে বিরাজমান অথবা উত্থিত হইতে পারে এমন সাংঘাতিক ধরনের বিবাদ মীমাংসার জন্য ; এবং

(গ) যেক্ষেত্রে কোনো জেলা অথবা জেলার অংশ অথবা স্থানীয় এলাকার খাজনা নির্ধারণ করা পর্যায়ে আছে ।

উপধারা-(৩)(১) উপধারায় প্রদত্ত কোনো আদেশ সরকারী বিজ্ঞপ্তিতে প্রকাশিত হইলে বিজ্ঞপ্তিটি উক্ত আদেশ যথাযথভাবে প্রদানের চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে ।

উপধারা-(৪)যেক্ষেত্রে ১ উপধারায় কোনো আদেশ প্রদান করা হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার উক্ত আদেশ মোতাবেক প্রণয়নকৃত অথবা পুনঃপরীক্ষিত খতিয়ানে ঐ সকল বিবরণসমূহ রেকর্ড করিবেন যেইগুলি নিরূপণ করা হইবে ।

উপধারা-(৪ক)(অ) অত্র আইনের অন্যত্র যাহা কিছু বলা থাকুক না কেন, রাজস্ব  অফিসার নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ভূমির খাজনা নির্ধারণ অথবা পুনঃনির্ধারণ করিবেন। যথা :

(ক) যেক্ষেত্রে রায়ত অথবা অকৃষি প্রজা কর্তৃক অধিকৃত ভূমির খাজনা ৪র্থ অধ্যায় অথবা ৯৮ (ক) ধারার অধীন নির্ধারণ করা হয় নাই অথবা ১০৭ ধারা মোতাবেক উক্ত ভূমি সম্বন্ধীয় খাজনার ব্যবস্থা করা হয় নাই, অথবা

(খ) যেক্ষেত্রে ক অনুচ্ছেদে উল্লেখিত শর্ত মোতাবেক কোনো ভূমির খাজনা কৃষি ভূমি হিসাবে নির্ধারণ করা হয় ও পরবর্তীতে উক্ত ভূমি অকৃষি উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় বা ভাইস ভার্সা । রাজস্ব অফিসার এই ধারা মোতাবেক কোনো খাজনা নির্ধারণ ও পুনঃনির্ধারণের বেলায় ২৬ ধারায় উল্লেখিত নীতিসমূহ বিবেচনা করিবেন ।

(আ) যেক্ষেত্রে কোনো জোতের অংশ অকৃষি উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার ৯৮(ক) ধারার ৩ উপধারায় উল্লেখিত নীতিসমূহ মোতাবেক ব্যবস্থা নিবেন ।

উপধারা-(৫)যেক্ষেত্রে (৪) উপধারায় উল্লেখিত বিবরণসমূহ ধারণ অথবা অন্তর্ভূক্তির জন্য খতিয়ান প্রণয়ন অথবা পুনঃপরীক্ষণ করা হয় এবং (৪ক) উপধারা মোতাবেক খাজনা নির্ধারণ অথবা পুনঃনির্ধারণ করা হয় সেক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার নির্ধারণ নিয়মে প্রণয়নকৃত অথবা পুনঃপরীক্ষিত স্বত্বলিপির খসড়া নির্ধারিত সময়ের জন্য প্রকাশ করিবেন এবং উক্ত প্রকাশের সময় কোন কিছু অন্তর্ভুক্ত হওয়া অথবা বাদ পড়া সম্বন্ধে আপত্তিসমূহ গ্রহণ ও বিবেচনা করিবেন ।

উপধারা-(৬)(৫) উপধারা মোতাবেক দায়েরকৃত আপত্তির উপর রাজস্ব অফিসার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের দ্বারা ক্ষুদ্ধ কোনো ব্যক্তি সরকারী সেটেলমেন্ট অফিসারের পদ মর্যাদার নীচে নয় এইরূপ নির্ধারিত রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট নির্ধারিত সময়সীমার ভিতর আপিল দায়ের করিতে পারেন ।

উপধারা-(৭)যখন ঐরূপ সমস্ত আপত্তি এবং আপিলের বিবেচনা ও নিষ্পত্তি এই উদ্দেশ্যে সরকার কর্তৃক প্রণীত বিধিমালা মোতাবেক সম্পন্ন হয় তখন রাজস্ব অফিসার চূড়ান্তভাবে রেকর্ড প্রণয়ন করিবেন এবং নির্ধারিত নিয়মে উহা চূড়ান্তভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা এবং এই ধারা মোতাবেক রেকর্ড সঠিকভাবে প্রণয়ন এবং পুনঃপরীক্ষণ করা হইয়াছে মর্মে উক্ত প্রকাশ চূড়ান্ত সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে ।

উপধারা-(৮)যেক্ষেত্রে একটি খতিয়ান (৭) উপধারায় চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হইয়াছে সেইক্ষেত্রে এই উদ্দেশ্যে রাজস্ব অফিসার ল্যাণ্ড রেকর্ডস-এর ডাইরেক্টর কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের ভিতর ঐ চূড়ান্ত প্রকাশ এবং উহার তারিখের বিষয় উল্লেখ করিয়া একটি সার্টিফিকেট দিবেন এবং উহাতে তাহার নাম অফিসের পদবীসহ স্বাক্ষর ও তারিখ দিবেন ।

ধারা-১৪৪-ক (স্বত্বলিপির বিশুদ্ধতার অনুমান)

১৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী প্রস্তুতকৃত বা পরিমার্জনকৃত প্রতিটি স্বত্বলিপির লিখন উহাতে বর্ণিত বিষয়ের এইরূপ লিখনে সাক্ষ্য হিসাবে গণ্য হইবে এবং অশুদ্ধ বলিয়া সাক্ষ্য দ্বারা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত শুদ্ধ বলিয়া অনুমান করিতে হইবে ।

ধারা-১৪৪-খ (দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারে বিধি-নিষেধ)

উপধারা-(১)যখন ১৪৪ ধারার (১) উপধারার বিধান অনুযায়ী কোনো এলাকার স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণের বা পরিমার্জনের নির্দেশ দিয়া আদেশ দেওয়া হয়, তখন ১১১ ধারার বিধানসাপেক্ষে, কোনো দেওয়ানী আদালত খাজনা পরিবর্তনের বা কোনো প্রজাস্বত্বের বিষয়ে প্রজার মর্যাদা নির্ধারণের জন্য কোনো মামলা বা আবেদন গ্রহণ করিবেন না এবং এইরূপ আদেশের পর যদি এইরূপ এলাকার এইরূপ কোনো মামলা বা আবেদন বিচারাধীন থাকে, তাহা আর চলিবে না এবং বাতিল হইবে এবং উক্ত তারিখের পরে কোনো মামলায় কোনো রায়, ডিক্রি বা আদেশ দেওয়া হয় বা আবেদনের কোনো আদেশ দেওয়া হয় তাহা অকার্যকরী হইবে এবং কোনো বৈধ ফল হইবে না ।

উপধারা-(২)এই অধ্যায় অনুযায়ী স্বত্বলিপি প্রস্তুত ও পরিমার্জনের কোনো নির্দেশ দিয়া আদেশ দেওয়া হইলে বা এইরূপ স্বত্বলিপি বা উহার অংশবিশেষ প্রস্তুতকরণ, প্রকাশন, স্বাক্ষরকরণ বা তসদিককরণ সম্পর্কে দেওয়ানী আদালত কোনো মামলা বা আবেদন দাখিল করা যাইবে না এবং যদি এইরূপ কোনো মামলা বা আবেদন দেওয়ানী আদালতে বিচারাধীন থাকে তাহা আর চলিবে না তাহা বাতিল হইবে এবং যদি এইরূপ কোনো মামলায় কোনো রায়, ডিক্রি বা আদেশ দেওয়া হয় অথবা এইরূপ আবেদনের কোনো আদেশ দেওয়া হয় তাহা অকার্যকরী হইবে এবং কোনো বৈধ ফল হইবে না ।

ধারা-১৪৫ (স্বত্বলিপি পরিমার্জন খরচ আদায়)

উপধারা-(১) যেখানে এই অধ্যায়ের অধীনে কোনো জেলা, জেলার অংশবিশেষ বা স্থানীয় এলাকায় স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণের ও পরিমার্জনের নির্দেশ দেওয়া হইয়া থাকে, এইরূপ প্রস্তুতকরণ ও পরিমার্জনের জন্য যাহা খরচ হইবে তাহা রায়তের এবং ভূমির অন্যান্য দখলকারীদের নিকট হইতে যদি থাকে এইরূপ অংশ কিস্তিতে আদায় করা হইবে, যাহা সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করিতে পারেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, চতুর্দশ অধ্যায়ের বিধান অনুযায়ী এইরূপ রায়তের যথাযথ ও ন্যায়সংগত খাজনা নির্ধারণের লক্ষ্যে যেখানে ১৪৪ ধারার (২) উপধারার (গ) দফা অনুযায়ী স্বত্বলিপি প্রস্তুতকরণের ও পরিমার্জনের ব্যবস্থা লওয়া হইয়াছে সেখানে খরচের কোনো অংশই রায়তেদর বা দখলকারদের নিকট হইতে আদায় করা যাইবে না ।

উপধারা-(২)(১) উপধারা অনুযায়ী খরচের যে অংশ যাহা কোনো ব্যক্তির দিতে হইবে তাহা উক্ত জেলা, জেলার অংশ বিশেষ বা স্থানীয় এলাকার মধ্যে অবস্থিত উক্ত ব্যক্তির জোতের বকেয়া খাজনা বা অন্য হিসাবে যাহাই হউক, সরকার আদায় করিতে পারিবেন ।

ধারা-১৪৬ (রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপর তদারক ও নিয়ন্ত্রণ)

উপধারা-(১) রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপর সাধারণ তদারক ও নিয়ন্ত্রণ ভূমি প্রশাসন বোর্ডের উপর ন্যস্ত থাকিবে এবং ঐ সকল কর্মকর্তা ভূমি প্রশাসন বোর্ডের অধীন থাকিবে ।

উপধারা-(২)(১) উপধারার বিধানসাপেক্ষে বিভাগীয় কমিশনার তাহার বিভাগের অন্যান্য রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখিবেন ।

উপধারা-(৩)উপরোল্লিখিত বিধান এবং বিভাগের কমিশনারের নিয়ন্ত্রণসাপেক্ষে কালেক্টর তাহার জেলার অন্যান্য সকল রাজস্ব কর্মকর্তাদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখিবেন ।

ধারা-১৪৭ (আপিল)

এই অংশ বা এই অংশের আইন অনুযায়ী প্রণীত বিধিমালাতে আপিলের বিশেষ বিধানসাপেক্ষে রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক এই অংশের বিধান অনুযায়ী প্রত্যেক মূল বা আপিল আদেশের বিরুদ্ধে নিম্নলিখিতভাবে আপিল করা যাইবে যথা :

(ক) কালেক্টর নিকট, যখন কালেক্টরের অধীনস্থ রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হয়;

(কক) বিভাগীয় কমিশনারের নিকট, যখন বিভাগের মধ্যে জেলার কালেক্টর কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হয়;

(খ) ১৯৭৩ সালের পি, ও ১২ দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

(গ) ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নিকট, যখন বিভাগের কমিশনার কর্তৃক আদেশ প্রদান করা হয় ।

ধারা-১৪৮ (আপিলের জন্য তামাদি)

১৪৭ ধারা অনুযায়ী আপিলের জন্য তামাদির সময়সীমা যে আদেশের বিরুদ্ধে আপিল জানানো হয় সেই আদেশের তারিখ হইতে চলিতে থাকিবে এবং উহা নিম্নরূপ হইবে অর্থাত্‍-

(ক) কালেক্টরের নিকট আপিল-৩০ দিন

(খ) বিভাগীয় কমিশনারের নিকট আপিল-৬০ দিন

(গ) ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নিকট আপিল-৯০ দিন।

ধারা-১৪৯ (রিভিশন)

উপধারা-(১)এই অংশের আওতায় রিভিশনের বিশেষ বিধান সাপেক্ষে, কালেক্টর তাহার নিজ উদ্যোগে তাহারাই অধীনস্থ একজন রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক এই অংশের অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশের তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে বা এইরূপ আদেশের তারিখ হইতে এক মাসের মধ্যে দাখিলকৃত কোনো আবেদনের ভিত্তিতে এইরূপ আদেশ পরিমার্জন করিতে পারিবেন ।

(১ক) একজন বিভাগীয় কমিশনার তাহার নিজ উদ্যোগে তাহার বিভাগের মধ্যকার কোনো জেলার কালেক্টর কর্তৃক এই অংশের অধীনে প্রদত্ত কোনো আদেশের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে অথবা এইরূপ আদেশের তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে দাখিলকৃত কোনো আবেদনের ভিত্তিতে এইরূপ আদেশ পরিমার্জন করিতে পারিবেন ।

উপধারা-(২)১৯৭২ সালের ১২ নং পি, ও, দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধারা-(৩)ভূমি প্রশাসন বোর্ড উহার নিজ উদ্যোগে এই অংশের অধীনে কোনো বিভাগীয় কমিশনার কর্তৃক প্রদত্ত আদেশের তারিখ হইতে ছয় মাসের মধ্যে অথবা এইরূপ আদেশের তারিখ হইতে ছয় মাসের মধ্যে দাখিলকৃত কোনো আবেদনের ভিত্তিতে এইরূপ আদেশ পরিমার্জন করিতে পারেন ।

উপধারা-(৪) ভূমি প্রশাসন বোর্ড যে কোনো সময় এই অংশের অধীনে সংরক্ষিত স্বত্বলিপির লিখন অথবা এই অংশের অধীনে প্রস্তুতকৃত এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত সেটেলমেন্ট রেষ্ট রোলে যথার্থ ভুল রহিয়াছে বলিয়া সন্তুষ্ট হইলে সংশোধনের আদেশ দিতে পারিবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, এইরূপ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হইয়া থাকিলে এই ধারার অধীনে আদেশের পরিমার্জন করা যাইবে না ।

আরও  শর্ত থাকে যে, আপিলের সংশ্লিষ্ট পক্ষবৃন্দকে বিষয়টির উপর শুনানীর জন্য যুক্তিসংগত নোটিশ প্রদান না করিয়া (৪) উপধারার অধীনে কোনো সংশোধনীর আদেশ দেওয়া যাইবে না ।

ধারা-১৫০ (রাজস্ব কর্মকর্তা কর্তৃক রিভিউ)

উপধারা-(৪)একজন রাজস্ব কর্মকর্তা যে কোনো স্বার্থ সংশ্লিষ্ট পক্ষের আবেদনক্রমে অথবা স্ব-উদ্যোগে তাহার নিজের প্রদত্ত অথবা তাহার পূর্ববর্তী কর্মকর্তা কর্তৃক এই আইনের এই অংশের অধীনে পেশকৃত যে কোনো আদেশ রিভিউ করিতে পারেন এবং এইরূপ কোনো আদেশ রিভিউ করিতে গিয়া এইরূপ আদেশকে পরিবর্তন, খণ্ডন বা বহাল রাখিতে পারেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, (ক) এইরূপ আদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে একটি আদেশের রিভিউর জন্য আবেদন করা না হইলে অথবা যখন এইরূপ আবেদন ত্রিশ দিন অতিবাহিত হইবার পর দাখিল করা হয় তখন উক্ত সময়ের মধ্যে আবেদন না করার যথেষ্ট কারণ ছিল রাজস্ব কর্মকর্তাকে আবেদনকারী সন্তুষ্ট না করিতে পারিলে গ্রহণ করা যাইবে না;

(খ) যদি এইরূপ আদেশের বিরুদ্ধে কোনো আপিল করা হইয়া থাকে অথবা উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষের নিকট এইরূপ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশনের আবেদন করা হইয়া থাকে, তাহা হইলে আদেশ রিভিউ গ্রহণ করা যাইবে না; এবং

(গ) উক্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষদেরকে শুনানী করার জন্য হাজির হইবার জন্য যুক্তিসংগত নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত রিভিউতে একটি আদেশ সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাইবে না ।

উপধারা-(২)রিভিউ এর আবেদন নাকচ করিয়া অথবা রিভিউতে পূর্ববর্তী কোনো আদেশ বহাল রাখিয়া আদেশ দেওয়া হইলে তার বিরুদ্ধ কোনো আপিল চলিবে না ।

ধারা-১৫১ (এই আইন অনুযায়ী আপিল, রিভিশন ও রিভিউ-এর আবেদনের জন্য তামাদির সময়সীমা গণনা)

উপধারা-(১)১৯০৮ সালের তামাদি আইনের (১৯০৮ সালের ৯ নং আইন) ৬, ৭, ৮ এবং ৯ ধারা ২৯ ধারার (২) উপধারা, পঞ্চম অংশ অনুযায়ী আনীত সকল মামলা, আপিল এবং আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে না এবং এই আইনের বিধানসাপেক্ষে পূর্ববর্তী আইনের অবশিষ্ট বিধানাবলী উক্ত অংশ অনুযায়ী আনীত সকল মামলা আপিল ও আবেদনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হইবে ।

উপধারা-(২)পঞ্চম অংশে বর্ণিত সকল মামলা, আপিল ও আবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়ের করিতে হইবে, তামাদির নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়ের না হইলে ঐরূপ দায়েরকৃত মামলা আপিল ও আবেদন খারিজ হইয়া যাইবে যদিও তামাদির বিষয় ওজর করা হয় নাই ।

ধারা-১৫১ক (কতিপয় জমির ক্ষেত্রে খাজনা মওকুফ)

উপধারা-(১) এই আইনের অন্যত্র যাহা কিছু বলা থাকুক না কেন, যেখানে মালিক বা অকৃষি প্রজা এমন জমি অধিকারে রাখে যাহা প্রথমত গণপ্রার্থনা বা ধর্মীয় পূজা, গণ-কবর বা শ্নশানের স্থান হিসাবে ব্যবহৃত হয়, সেখানে ঐ জমির খাজনা মওকুফের জন্য সে নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানাইতে পারে ।

উপধারা-(২) এইরূপ আবেদন প্রাপ্তির তারিখ হইতে তিন মাসের মধ্যে জেলা প্রশাসক যাহা যথাযথ মনে করিবেন এরূপ অনুসন্ধান করার পর নিশ্চয়তা বিধান করিবেন যে আবেদনে বর্ণিত জমি উল্লিখিত ব্যবহৃত হয় কিনা ।

উপধারা-(৩) যদি জেলা প্রশাসক সন্তুষ্ট হন যে, আবেদনে বর্ণিত জমি উল্লিখিত উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহা হইলে তিনি নির্ধারিত পদ্ধতিতে ঐ ব্যবহৃত জমির এলাকা নির্ধারণ করিবেন এবং ঐ এলাকার খাজনা মওকুফ করিয়া দিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবেন এবং যদি জেলা প্রশাসক সন্তুষ্ট না হন, তাহা হইলে ঐ আবেদন প্রত্যাখ্যান করিয়া একটি আদেশ প্রদান করিবেন ।

উপধারা-(৪) যদি (৩) উপধারা অনুযায়ী নির্ধারিত এলাকা জোত বা প্রজাস্বত্ব অংশবিশেষ হয়, তাহা হইলে জেলা প্রশাসক এই এলাকাকে অবশিষ্ট জোত বা প্রজাস্বত্ব হইতে পৃথক করিবেন এবং ঐ এলাকার জন্য নিষ্কর প্রজাস্বত্ব সৃষ্টি করিবেন ।

উপধারা-(৫) যেখানে (৪) উপধারা অনুযায়ী পৃথক নিষ্কর প্রজাস্বত্বের সৃষ্টি হয়, সেখানে জেলা প্রশাসক জোত বা প্রজাস্বত্ব যাহা হইতে নিষ্কর প্রজাস্বত্বের সৃষ্টি হইয়াছে, তাহার প্রদানযোগ্য খাজনা ঐ নিষ্কর প্রজাস্বত্বের এলাকার অনুপাতে হ্রাস করিবেন ।

উপধারা-(৬) (৩) উপধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের আদেশ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ঐ আদেশের তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে বিভাগীয় কশিনারের নিকট আপীল করিতে পারেন।

উপধারা-(৬ক) (৬) উপধারা অনুযায়ী বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি উক্ত আদেশের তারিখ হইতে ষাট দিনের মধ্যে এইরূপ আদেশের বিরুদ্ধে ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নিকট রিভিশনের জন্য আবেদন করিতে পারিবে ।

উপধারা-(৭) ১৯৭৩ সালের ১২ নং পি, ও দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধারা-(৮) ভূমি প্রশাসন বোর্ড যে কোনো সময় স্ব-উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসক কর্তৃক এই ধারা অনুযায়ী প্রদত্ত আদেশ পরিমার্জিত করিতে পারিবেন ।

উপধারা-(৯) এই ধারা অনুযায়ী খাজনা প্রদান করা হইতে অব্যাহতির আদেশ, এইরূপ আদেশের পরবর্তী কৃষি বত্সরের শুরু হইতে কার্যকরী হইবে ।

ধারা-১৫১খ (১৫১ ধারা মোতাবেক খাজনা মওকুফবিশিষ্ট জমির খাজনা পুনঃনির্ধারণ )

উপধারা-(১) যেক্ষেত্রে ১৫১ক ধারা মোতাবেক যে সমস্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করিবার নিমিত্ত কোনো জমির খাজনা মওকুফ করা হইয়াছিল উহা যদি সেই সমস্ত উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করা হয় সেক্ষেত্রে ঐ ভূমির খাজনা পুনঃনির্ধারণের ক্ষমতা জেলা প্রশাসকের থাকিবে এবং একই গ্রামের বা সংলগ্ন গ্রামের অনুরূপ বর্ণনা ও সুবিধা সম্বলিত ভূমির জন্য সাধারণভাবে প্রদেয় খাজনার হার বিবেচনা করিয়া তিনি যাহা ন্যায্য ও ন্যায়সঙ্গত মনে করিবেন সেইরূপভাবে উহা নির্ধারণ করিবেন ।

শর্ত থাকে যে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে উপস্থিত হওয়ার এবং উক্ত বিষয়ে শুনানীর নিমিত্ত ১৫ দিনের কম নহে নোটিশ প্রদান না করিয়া উহা পুনঃনির্ধারণ করা চলিবে না ।

উপধারা-(১) উপধারা মোতাবেক জেলা প্রশাসকের আদেশ কর্তৃক ক্ষুব্ধ ব্যক্তি উক্ত আদেশ প্রদানের তারিখ হইতে ৩০ দিনের ভিতর (বিভাগীয় কমিশনারের) কাছে আপিল দায়ের করিতে পারে ।

উপধারা-২ক (২) উপধারা মোতাবেক বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ কর্তৃক ক্ষুব্ধ ব্যক্তি উক্ত আদেশ প্রদানের ৬০ দিনের ভিতর উক্ত আদেশ রিভিশন করার জন্য ভূমি প্রশাসন বোর্ডের কাছে দরখাস্ত দাখিল করিতে পারে এবং বোর্ডের আদেশ চূড়ান্ত হইবে ।

উপধারা-(৩) ১৯৭৩ সনের ১২ নং পি, ও দ্বারা বাদ দেওয়া হইয়াছে ।

উপধার-(৪)-ঐ পুনঃনির্ধারিত খাজনা এই ধারা মোতাবেক পুনঃনির্ধারণের তারিখের পরের কৃষি বত্সরের প্রথম হইতে কার্যকর হইবে ।

ধারা-১৫১গ (কতিপয় ক্ষেত্রে কৃষি জমি সম্পর্কিত রাজস্ব মওকুফ)

এই আইনের অন্যত্র ভিন্ন কিছু থাকা সত্ত্বেও এবং এই অধ্যায়ের শর্তসাপেক্ষে, যেখানে যে কোনো পরিবার কর্তৃক বাংলাদেশে অধিকৃত মোট কৃষি জমির পরিমাণ পচিঁশ বিঘা অতিক্রম করিবে না সেখানে উক্ত পরিবার ১৩৭৯ বাংলা সালের পহেলা বিঘা অতিক্রম করিবে না সেখানে উক্ত পরিবার ১৩৭৯ বাংলা সালের পহেলা বৈশাখ হইতে অথবা ১৫১-ঝ ধারা অনুযায়ী উহা যে তারিখ হইতে মওকুফের  অধিকারী হইবে সেই তারিখ হইতে যাহা যেখানে প্রযোজ্য হয়, উক্ত জমি সম্পর্কিত ভূমি রাজস্ব প্রদান হইতে অব্যাহিত পাইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তারিখে যে পরিবারের অধিকৃত জমির পরিমাণ পঁচিশ বিঘা অতিক্রম করিয়াছিল, সে পরিবার ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর হইতে ১৫১ ঘ ধারা অনুযায়ী বিবরণী দাখিলের শেষ তারিখ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে হস্তান্তরের কারণে মোট জমির পরিমাণ হ্রাসপ্রাপ্ত হইয়া পঁচিশ বিঘা বা তাহার কম হওয়ার ফলে ভূমি রাজস্ব  মওকুফ পাওয়ার দাবির অধিকারী হইবে না ।

আরও  শর্ত থাকে যে, এই ধারা অথবা ১৫১ঝ ধারা অনুযায়ী ভূমি রাজস্ব মওকুফ কোনো ব্যক্তিকে ১৯৫৮ সালের অর্থ (তৃতীয় অধ্যাদেশ)। (১৯৫৮ সালের ৮২নং ই, পি, অধ্যাদেশ) অনুযায়ী অতিরিক্ত উন্নয়ন এবং রিলিফ কর, ১৯৩০ সালের বঙ্গীয় (গ্রামাঞ্চল) প্রাথমিক শিক্ষা আইন (১৯৩০ সালের ৭ নং বঙ্গীয় আইন) অনুযায়ী সেসকর ১৯৫৯ মৌলিক গণতন্ত্র আদেশের (১৯৫৯ সালের ৮ নং পি, ও,) অধীনে স্থানীয় রেটস, যাহা ভূমি রাজস্বের উপর ভিত্তি করিয়া গড়িয়া উঠে এবং সাময়িকভাবে বলবতকৃত অন্য কোনো আইন অনুযায়ী প্রদানযোগ্য অন্য কোনো খাজনা, কর, সেস কর প্রদান করা হইতে অব্যাহতি পাইবে না ।

ধারা ১৫১ঘ (পঁচিশ বিঘার অতিরিক্ত কৃষি জমির অধিকারী পরিবার প্রধান কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে বিবরণী দাখিল)- ১৯৭৩ সালের ৩১শে জানুয়ারীর মধ্যে, সকল পরিবারের প্রধানগণ, যাহারা হয় ব্যক্তিগতভাবে অথবা যাহাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে বাংলাদেশে পঁচিশ বিঘার উর্ধ্বে কৃষি জমি ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর তারিখে অথবা বিবরণী দাখিলের তারিখে অধিকারে রাখিত বা রাখে, তাহারা নির্ধারিত ফরমে ও পদ্ধতিতে ঐ সকল জমির একটি বিবরণী রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিবেন ।

তবে শর্ত থাকে যে, সরকার সকল ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে, কোনো শ্রেণীর ক্ষেত্রে বা কোনো এলাকার ক্ষেত্রে বিবরণী দাখিলের সময়সীমা যাহা যথাযথ মনে করিবেন ততদিন বর্ধিত করিতে পারিবে ।

ধারা-১৫১ঙ (বিবরণী দাখিল না করা বা ইচ্ছামূলক জমি গোপন করার জন্য শাস্তি)

কোনো পরিবারের প্রধান যে বিবেচনা সংগত কারণ ব্যতীত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৫১-ঘ ধারা অনুযায়ী দাখিল করিতে ব্যর্থ হয় বা ঐ ধারা অনুযায়ী তদকর্তৃক দাখিলকৃত বিবরণীতে ইচ্ছামূলকভাবে কোনো কিছু বাদ দেয়া বা অসত্য ঘোষণা প্রদান করে, সে এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার দায়ে দায়ী হইবে এবং যে জমির জন্য কোনো বিবরণী করা হয় নাই বা বিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হইয়াছে বা যাহার সম্পর্কে অসত্য ঘোষণা করা হইয়াছে ঐ জমি বাজেয়াপ্ত হইয়া সরকারের উপর ন্যস্ত হইবে ।

তবে শর্ত থাকে যে, যেখানে বিবরণী দাখিলের ব্যর্থতা বা বিবরণীতে কোনো জমি বাদ বা অসত্য ঘোষণা এমন জমি সম্পর্কে ঘটে যাহা ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বা তাহার পরে ঐ পরিবারের কোনো সদস্য কর্তৃক হস্তান্তরিত হইয়াছে সেই জমি বাজেয়াপ্ত হইবে না কিন্তু তাহার পরিবর্তে ঐ পরিবারের সদস্য বা সদস্যরা যে জমি দখলে রাখিয়াছে সেই জমি হইতে সমপরিমাণ জমি বাজেয়াপ্ত করা হইবে ।

ধারা ১৫১চ (কতিপয় ক্ষেত্রে মওকুফপ্রাপ্ত জোতের পুনঃনির্ধারণের জন্য দায়)

যদি কোনো ব্যক্তি যে ১৫১গ ধারা অনুযায়ী ভূমি রাজস্ব প্রদান হইতে নিষ্কৃতি পায় পরবর্তীকালে কোনো সময়ে উত্তরাধিকার সূত্রে ক্রয়, দান, হেবার দ্বারা বা অন্য কোনোভাবে কৃষি জমি অর্জন করে যাহা তত্কর্তৃক বা তাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্য কর্তৃক ইতিপূর্বে অর্জিত মোট কৃষি জমির সংগে সংযুক্ত হইয়া সর্বমোট পঁচিশ বিঘার অতিরিক্ত হয় তাহা হইলে তত্কর্তৃক বা তাহার পরিবারের সদস্য কর্তৃক অধিকৃত সর্বমোট কৃষিজমি নিম্নলিখিত তারিখ হইতে ভূমি রাজস্ব প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ হইবে; যথা :

(১) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিকের পূর্বে অর্জনের ক্ষেত্রে ঐ বত্সরের পহেলা কার্তিক হইতে কার্যকরী হইবে; এবং

(২) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিক বা পহেলা কার্তিকের পরে অর্জনের ক্ষেত্রে ঐ অর্জনের তারিখের পরবর্তী বাংলা বত্সরের প্রথম দিন হইতে কার্যকরী হইবে ।

ধারা-১৫১ছ (কতিপয় ক্ষেত্রে অর্জিত জমির জন্য পরিবারের প্রধান কর্তৃক বাধ্যতামূলকভাবে বিবরণী দাখিল)

কোনো পরিবারের প্রধান যে অথবা যাহার পরিবারের কোনো সদস্য কৃষি জমি অর্জন করার ফলে পরিবার কর্তৃক অর্জিত কৃষিজমির মোট পরিমাণ ১৫১চ ধারা অনুযায়ী ভূমি রাজস্ব প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ হয় ঐ অর্জনের তারিখ হইতে নব্বই দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে তত্কর্তৃক ও তাহার পরিবারের অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃক সকল কৃষি জমির একটি বিবরণী রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট দাখিল করিবেন ।

ধারা-১৫১জ (বিবরণী দাখিল না করা বা ইচ্ছামূলকভাবে জমি গোপন রাখার জন্য শাস্তি)

একজন পরিবারের প্রধান যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৫১ছ ধারা অনুযায়ী বিবরণী দাখিল করিতে ব্যর্থ হয় বা ঐ ধারা অনুযায়ী তত্কর্তৃক দাখিলকৃত বিবরণীতে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কিছু বাদ দেয় বা অসত্য ঘোষণা প্রদান করে সে এক হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানার দায়ে দায়ী হইবে এবং যে জমির জন্য কোনো বিবরণী দাখিল করা হয় নাই বা যাহা বিবরণী হইতে বাদ দেওয়া হইয়াছে বা যাহার সম্পর্কে অসত্য ঘোষণা প্রদান করা হইয়াছে ঐ জমি বাজেয়াপ্ত হইয়া সরকারের উপর ন্যস্ত হইবে ।

ধারা ১৫১ঝ (জমির পরিমাণে হ্রাসপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ভূমি রাজস্ব প্রদান করা হইতে নিষ্কৃতি )

যেখানে কোনো পরিবার কর্তৃক ভূমি রাজস্ব প্রদানের জন্য দায়বদ্ধ মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১৫১ঘ বা ১৫১জ ধারা অনুযায়ী বিবরণী দাখিলের পর উত্তরাধিকার বা প্রকৃত হস্তান্তরের কারণে পচিঁশ বিঘা বা তাহার কম হয়, সেখানে ঐ পরিবারের প্রধান নির্ধারিত ফরমে ভূমি রাজস্ব প্রদান করা হইতে নিষ্কৃতি চাহিয়া ঐ হ্রাসপ্রাপ্তির তারিখ ও কারণ বর্ণনা করিয়া রাজস্ব কর্মকর্তার নিকট আবেদন জানাইতে পারিবে এবং রাজস্ব কর্মকর্তা যথাযথ অনুসন্ধান করার পর আবেদনে বর্ণিত বিবরণী সম্পর্কে সন্তুষ্ট হইয়া নিম্নলিখিত তারিখ হইতে ঐ নিষ্কৃতি অনুমোদন করিয়া আদেশ প্রদান করিবেন, যথা :

(১) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিকের পূর্বে আবেদনের ক্ষেত্রে ঐ বত্সরের পহেলা কার্তিক হইতে কার্যকরী হইবে ।

(২) বাংলা বত্সরের পহেলা কার্তিক বা পহেলা কার্তিকের পরে আবেদনের ক্ষেত্রে ঐ আবেদনের তারিখের পরবর্তী বাংলা বত্ সরের প্রথম দিন হইতে কার্যকরী হইবে ।

ধারা-১৫১ ঞ (পরিবার ও পরিবারের প্রধানের সংজ্ঞা)

(ক) কোনো ব্যক্তি সম্পর্কিক 'পরিবার' ঐ ব্যক্তি ও তাহার স্ত্রী, পুত্র, কন্যা, পুত্রবধু, পুত্রের পুত্র ও পুত্রের অবিবাহিতা কন্যা ।

তবে শর্ত এই যে, একজন বয়স্ক ও বিবাহিত পুত্র যে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বরের পূর্ব হইতে বিরামহীনভাবে তাহার পিতামাতা হইতে স্বাধীনভাবে পৃথক মেসে বসবাস করিয়া আসিতেছে সেও তাহার স্ত্রী-পুত্র ও অবিবাহিতা কন্যা একটি পৃথক পরিবার গঠন করিয়াছে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে ।

আর ও শর্ত থাকে যে, ওয়াকফ, ওয়াকফ-আল-আওলাদ, দেবোত্তর বা অন্য কোনো ট্রাস্টের অধীনস্থ জমি যেখানে সুবিধাভোগীদের তাহাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসাবে ঐ সকল সম্পত্তি হস্তান্তর করার অধিকার থাকে সেইক্ষেত্রে ঐ সকল সুবিধাভোগীরা একত্রে ঐ সকল জমি সম্পর্কিত পৃথক পরিবার গঠন করিয়াছে বলিয়া ধরিয়া লওয়া হইবে ।

(২) ''পরিবারের প্রধান'' বলিতে বুঝায়-

(১) (ক) অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুবিধিতে বর্ণিত ক্ষেত্র ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে ঐ পুরুষ বা মহিলা যাহার সম্পর্ক দ্বারা রাজস্ব অফিসার নির্ধারিত নিয়মে পরিবার নির্ধারণ করেন ।

(১) (খ) অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় অনুবিধিতে বর্ণিত ক্ষেত্রে মুতওয়াল্লী, সেবায়েত বা ট্রাস্টিকে, যেখানে যাহা প্রযোজ্য হয় ।

ধারা-১৫২ (বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা)- (১) সরকার পূর্বে প্রকাশ করার পর এই খণ্ডের উদ্দেশ্যে কার্যকর করার জন্য বিধিমালা প্রণয়ন করিতে পারিবেন ।

(২) বিশেষভাবে ও উপরোক্ত ক্ষমতার সাধারণভাবে কোন হানিকর কিছু না করিয়া নিম্নলিখিত বিষয়সমূহের সকল অথবা যে কোন একটির জন্য উক্ত বিধিমালায় থাকিবে, যথা :

(ক) ৮৬ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত আবেদনের ফরম ও ঐ উপধারায় বর্ণিত মওকুফের পরিমাণ নির্ধারণ করিবার নিয়ম;

(খ) বাতিল

(গ) ৮৯ ধারায় (১) উপধারা ক অনুচ্ছেদ এবং (৪) উপধারায় বর্ণিত নোটিশের ফরম ও উহাতে বর্ণিত প্রসেস ফী এর পরিমাণ;

(ঘ) ৯০ ধারার (৩) ও (৪) উপধারায় বর্ণিত রাজস্ব কর্তৃপক্ষ

(ঙ) ৯২ ধারার (১) উপধারার খ অনুচ্ছেদে বর্ণিত নোটিশের ফরম ও যে নিয়মে যে সময়ের মধ্যে ঐ নোটিশ প্রদান করিতে হইবে এবং উক্ত ধারার (৩) উপধারায় বর্ণিত নোটিশ প্রকাশের নিয়ম,

(চ) ৯৪ ধারা মোতাবেক দায় হস্তান্তর করিবার জন্য রাজস্ব অফিসার কর্তৃক ভূমি নির্ধারণের নিয়ম বা উপায়;

(ছ) ৯৯ ধারার (১) উপধারার ক অনুচ্ছেদে বর্ণিত খাজনার হার নির্ধারণ করিবার জন্য রাজস্ব অফিসার কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি ও প্রয়োগকৃত ক্ষমতা ও উক্ত অনুচ্ছেদ মোতাবেক খাজনার হারের টেবিলের ফরম, ঐ টেবিলের প্রস্তুতকরণের নিয়ম এবং উহাতে বর্ণিত বিবরণসমূহ;

(জ) ৯৯ ধারার (১) উপধারার খ অনুচ্ছেদ মোতাবেক খাজনার বন্দোবস্তকৃত খাজনা বিবরণী-এর ফরম, উহা প্রস্তুতের নিয়ম ও উহাতে বণীর্ত বিবরণসমূহ;

(ঝ) ১০০ ধারার (২) উপধারার চ অনুচ্ছেদ এবং (৩) উপধারায় বর্ণিত খাজনার গড় হার নির্ধারণের সময়;

(ট) ১০১ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক খাজনার হারের খসড়া টেবিলের প্রকাশের নিয়ম ও উক্ত ধারার (৩) উপধারায় বর্ণিত রাজস্ব অফিসার;

(ঠ) ১০৮ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক খসড়া বন্দোবস্তকৃত খাজনা বিবরণী প্রকাশের নিয়ম ও সময় ও উক্ত উপধারা মোতাবেক আপত্তিসমূহের নিষ্পত্তি;

(ত) ১০৯ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত অনুমোদনকারী কর্তৃকপক্ষ; ও উক্ত ধারার (৩) উপধারা মোতাবেক বন্দোবস্তকৃত খাজনা বিবরণী চূড়ান্ত প্রকাশের নিয়ম;

(ঢ) ১১০ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ;

(ন) ১১ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত আপিল দায়েরের নিয়ম;

(ত) বাতিল

(থ) ১৯ ধারায় (১) উপধারায় বর্ণিত আবেদনের ফরম;

(দ) ২০ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত অনুসন্ধান করার নিয়ম উধর্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ যাহার নিকট রাজস্ব অফিসার কর্তৃক উক্ত উপধারায় বর্ণিত আবেদন দায়ের করিতে হইবে এবং উক্ত ধারার (২) উপধারায় বর্ণিত আবেদনসমূহের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুসৃত পদ্ধতি;

(ধ) ১২২ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত জোতসমূহের সংযুক্তকরণ প্রকল্প প্রস্তুতের নিয়ম এবং উক্ত ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত উপদেষ্টা পরিষদের নিযুক্ত ও গঠন;

(ন) ১২৩ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক জোতসমূহের সংযুক্তকরণের খসড়া প্রকল্প প্রকাশের নিয়ম এবং সময় এবং উক্ত উপধারার অধীনে আপত্তিসমূহের নিষ্পত্তি;

(প) যে সময়ের মধ্যে ও যে নিয়মে ১২৪ ধারার (১) উপধারা মোতাবেক আপীল এবং উক্ত ধারার (২) উপধারা মোতাবেক ২য় আপিল দায়ের করা যাইবে এবং ঐ ধারায় বর্ণিত উর্ধ্বতন রাজস্ব কর্তৃপক্ষ;

(ফ) ১৩২ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত জোতসমূহের সংযুক্তকরণের জন্য কার্যক্রমসমূহের ব্যয় নির্ধারণের নিয়ম এবং ঐ উপধারা অনুযায়ী ঐরূপ ব্যয় আদায়;

(ব) ১৩৫ ধারার (১) উপধারায় বর্ণিত খাজনার কিস্তিসমূহ প্রদানের তারিখ;

(খ) ১৩৬ ধারা মোতাবেক খাজনা প্রদান অথবা ডাক মানি অর্ডার যোগে প্রেরণ;

(ম) ১৩৮ ধারায় বর্ণিত লিখিত রসিদের ফরম;

(য) ১৪১ ধারা মোতাবেক বকেয়া খাজনা আদায়ের জন্য অনুসৃত পদ্ধতি;

(যক) ১৪৩ ধারায় বর্ণিত স্বত্বলিপিসমূহ যে উপায়ে বা নিয়মে বর্তমান পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যাইবে;

(যখ) ১৪৪ ধারা অনুযায়ী স্বত্বলিপিসমূহ পরিমার্জন করিবার ক্ষেত্রে রাজস্ব অফিসার কর্তৃক অনুসৃত পদ্ধতি ও প্রয়োগকৃত ক্ষমতাসমূহ ।